ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'বেশি কথা'র তীব্র সমালোচনা করলেন
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাটিক ফোরামে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘন ঘন পোস্ট করার অভ্যাসের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি শনিবার (১৮ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, 'আমেরিকার পক্ষ থেকে অনেক টুইট করা হয়, অনেক কথা বলা হয়। কখনো তা বিভ্রান্তিকর, কখনো পরস্পরবিরোধী।' খাতিবজাদেহের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন জনগণের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য
ইরানের এই উচ্চপদস্থ কূটনীতিক আরও উল্লেখ করেন, 'এই বক্তব্যগুলো কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, তা নির্ধারণ করা আমেরিকার জনগণের ওপর নির্ভর করে।' তার এই বক্তব্য মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং ওয়াশিংটনের চাপের বিরুদ্ধে তারা দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানের দৃঢ় অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে, তা সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দেন খাতিবজাদেহ। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের ওপর অবরোধ চাপাতে চায়, অন্যদিকে ইরান সদিচ্ছা নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছে।' তার মতে, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি ও মার্কিন বাধার অভিযোগ
খাতিবজাদেহ জানান, ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতির সময় ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে এর জন্য আগে থেকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন যে তারা ইরানের এসব শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টা 'নষ্ট করার চেষ্টা করছে'।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশটির ঐতিহাসিক পরিচয়ের দিকেও ইঙ্গিত করেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'আমরা কী করব, তা একেবারেই স্পষ্ট। আমরা বীরত্বের সঙ্গে দেশকে রক্ষা করব—একটি প্রাচীন সভ্যতা হিসেবে।' এই মন্তব্য ইরানের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গর্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
এই কূটনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক চুক্তি সংক্রান্ত ইস্যুগুলোতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমাগত বাড়ছে। আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাটিক ফোরামে খাতিবজাদেহের এই মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইরানের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মত দিচ্ছেন।



