বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতায় কৃষি ও শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনা উল্লেখ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার
বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতায় কৃষি ও শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনা

বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতায় কৃষি ও শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনা উল্লেখ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও শিল্প উন্নয়নে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) চীন সফররত বিএনপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেশটির সিপিসি লু’আন পৌর কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও লু’আন পৌর সরকারের ভাইস-মেয়র লি কিয়াংয়ের বৈঠকে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

চীনা পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের বিস্তারিত

বৈঠকে চীনা পক্ষের পক্ষে লু’আন পৌর সরকারের উপ-মহাসচিব ও পৌর সরকারি কার্যালয়ের (পররাষ্ট্র বিষয়ক দফতর) পরিচালক লিউ ঝেংওয়াং এবং লু’আন পৌর গণসরকারের (পররাষ্ট্র) পূর্ণকালীন উপ-পরিচালক কিন ফেই উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

শীর্ষ চা কোম্পানি পরিদর্শন ও অভিজ্ঞতা

এর আগে বিএনপির প্রতিনিধি দল চীনের বিখ্যাত ‘গুয়াপিয়ান টি কোম্পানি লিমিটেড’ পরিদর্শন করে। সেখানে চা উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও মান নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন তারা। প্রতিষ্ঠানটি চীনের শীর্ষ চা কোম্পানিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত, যা বিশ্বব্যাপী তার পণ্যের জন্য সমাদৃত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিদর্শন শেষে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, "এই অভিজ্ঞতা একই সঙ্গে জ্ঞানসমৃদ্ধ ও অনুপ্রেরণাদায়ক। চা চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণের সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করে লু’আনের চা শিল্পের ঐতিহ্য ও উদ্ভাবন সম্পর্কে ধারণা আরও গভীর হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের কৃষি খাতে এই ধরনের প্রযুক্তি ও পদ্ধতি প্রয়োগ করা গেলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্য সুযোগ

তিনি আরও বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভ্যালু চেইন উন্নয়ন ও গ্রামীণ শিল্পায়নের মতো খাতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ দেখছে। কৃষি প্রযুক্তি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক এ ধরনের সফরের মাধ্যমে আরও জোরদার হবে। তিনি বলেন, "এই সফরটি শুধু রাজনৈতিক সম্পর্কই নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।"

সফরের অন্যান্য কার্যক্রম

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দল লু’আন শহরের মেয়রের আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেয়, যা উভয় দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আগে ১৭ এপ্রিল প্রতিনিধি দল চীনের জ্যাক মোটরস কোম্পানি পরিদর্শন করে এবং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়নায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে।

সেখানে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয় এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই মতবিনিময় সেশনে বাংলাদেশের উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা ও তাদের প্রত্যাশা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।

সফরের পটভূমি

উল্লেখ্য, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গত ১৬ এপ্রিল চীন সফরে যায় বিএনপির ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা।

সামগ্রিকভাবে, এই সফরটি বাংলাদেশের জন্য কৃষি ও শিল্প খাতে চীনের অগ্রগতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেন।