ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনা স্থগিত: শর্ত প্রত্যাহারের দাবি ও অনিশ্চিত সময়সূচি
ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু করার বিষয়ে এখনও সম্মতি দেয়নি তেহরান, এবং এ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচিও নির্ধারিত হয়নি। শনিবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটির দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সময় অতিরিক্ত কিছু শর্ত সামনে এনেছে, যা ইরানের কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। ফলে পরবর্তী আলোচনায় বসতে হলে এসব শর্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরানের অবস্থান
ইরান তাদের অবস্থান ইতোমধ্যে পাকিস্তানের এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে তারা রাজি নয়। এছাড়া ফলহীন ও দীর্ঘসূত্রতাপূর্ণ আলোচনায় সময় নষ্ট করতে আগ্রহী নয় বলেও মধ্যস্থতাকারীদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ইরান। এই পদক্ষেপটি ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তা এবং আলোচনার শর্তাবলীর প্রতি তাদের সংবেদনশীলতা তুলে ধরছে।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
এদিকে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনা প্রসঙ্গে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহ বলেন, উভয় পক্ষ একটি যৌথ কাঠামোতে একমত না হওয়া পর্যন্ত আলোচনার অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই কাঠামো নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বৈঠকের তারিখ ঠিক করা যাবে না। খতিবজাদেহ জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো আলোচনায় ইরান আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় নিজেদের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে কোনো আপস করতে প্রস্তুত নয়। তার এই মন্তব্য ইরানের কঠোর অবস্থান এবং আলোচনার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আলোচনার ভবিষ্যৎ ও প্রভাব
এই অবস্থানের ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শর্ত প্রত্যাহারের দাবি এবং যৌথ কাঠামোর অভাবে আলোচনা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের এই সিদ্ধান্ত তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেষ্টার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপের মুখে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শন করছে।
সূত্র: আল জাজিরা



