যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ, কূটনৈতিক জয় পেল পাকিস্তান
এই সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে পাকিস্তান, যারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের উত্থান
পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতার পেছনে রয়েছে একাধিক কৌশলগত কারণ। দেশটির ইরান ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদেরকে একটি নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো নিজেদের সংঘাতে জড়িত থাকায় মধ্যস্থতা করতে পারেনি।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইরান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি এলিয়ট অ্যাব্রামস পলিটিকোকে বলেছেন, 'তারা কূটনৈতিকভাবে নিজেদের মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে। আমি মনে করি তারা আগামীতেও বার্তা বহন করতে থাকবে এবং অনেক সুনাম অর্জন করেছে।'
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তান একের পর এক কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া কার্যক্রমের পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড উল্লেখ করেছেন, 'ওয়াশিংটনের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক এবং নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থা না থাকলে পাকিস্তান এই আলোচনার আয়োজন করতে পারত না।'
পাকিস্তানের গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- আফগানিস্তানে ১৩ মার্কিন সেনা হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন আইএস সদস্য গ্রেপ্তারে সহায়তা
- ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন প্রদান
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর
- ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিস'-এ যোগদান
- ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন
আলোচনা পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও স্বীকৃতি
ইসলামাবাদে আলোচনা শেষে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, 'তারা অসাধারণ মানুষ।' ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ ত্যাগ করার সময় বলেছেন, মুনির ও শরিফ 'অবিশ্বাস্য আতিথেয়তা' দেখিয়েছেন এবং আলোচনার ত্রুটির জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেননি।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই সম্পর্ক গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় ট্রাম্প তার প্রতি আকৃষ্ট হন এবং সেপ্টেম্বরে মুনির শরিফকে নিয়ে ওয়াশিংটন সফরে গেলে ট্রাম্পের অগ্রাধিকার সম্পদ নিয়ে যান।
ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
অবসরপ্রাপ্ত নৌ রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি সতর্ক করেছেন যে, পাকিস্তানের পক্ষে ইসরাইলের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আনা কঠিন হতে পারে। তবে একজন আরব কূটনীতিক বলেছেন, 'আমেরিকা যেভাবে পাকিস্তানকে ধন্যবাদ দিয়েছে এবং বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।'
এই আলোচনা প্রক্রিয়া পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে, যা ভবিষ্যতে তাদের কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।



