ইরানের হরমুজ প্রণালি ঘোষণায় বিভ্রান্তি: আভ্যন্তরীণ বিতর্কে বিশ্বজুড়ে ধোঁয়াশা
হরমুজ প্রণালি ঘোষণায় ইরানে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক

ইরানের হরমুজ প্রণালি ঘোষণায় আভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তি ও বিতর্ক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ বলে ঘোষণা দিলেও, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে খোদ ইরানেই দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি ও তীব্র বিতর্ক। দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থাগুলো এই ঘোষণার ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি আসলে কতটা সচল হলো, তা নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

আরাঘচির ঘোষণা ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে আব্বাস আরাঘচি জানান, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংগতি রেখে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার নির্ধারিত রুটে জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। এই ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আভ্যন্তরীণ সংস্থাগুলোর চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা

তবে আরাঘচির এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ দ্বিমত পোষণ করে। তারা এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং আলোচনারত দলের অস্বাভাবিক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ও তীব্র নিন্দা জানায়। এই সমালোচনা ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় গভীর বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে, আরেক বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে আরও ‘স্পষ্টীকরণ’ প্রয়োজন এবং এর জন্য ‘সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের’ দরকার আছে। এই মন্তব্য ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোয় চলমান অনিশ্চয়তার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে, বিশেষত নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকার প্রেক্ষাপটে।

সামরিক ও বেসামরিক চলাচলের শর্তাবলি

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনও সামরিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। শুধুমাত্র বেসামরিক জাহাজগুলো ইরানের নৌবাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট রুট দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে, যা এই উন্মুক্তকরণের সীমাবদ্ধতা ও শর্তাধীন প্রকৃতিকে তুলে ধরছে।

পটভূমি ও পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনও জাহাজের জন্য এই পথে চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল তেহরান। পরবর্তীতে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগামী জাহাজগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হয়েছিল। বর্তমান ঘোষণা সেই প্রেক্ষাপটে একটি সম্ভাব্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও, আভ্যন্তরীণ বিতর্ক ও বিভ্রান্তি বিশ্বব্যাপী এই নৌপথের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সংশয় তৈরি করেছে।