যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব: ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছর স্থগিত রাখার আহ্বান
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পারমাণবিক আলোচনা একটি সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে, যেখানে উভয় পক্ষই ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার সময়কাল নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে, যা ইরানকে তার সমস্ত পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রস্তাবটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির আন্তর্জাতিক অধিকার ত্যাগ করেনি বলে দাবি করতে পারবে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ইসলামাবাদ সফর ও আলোচনার অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি ২১-ঘণ্টার সফর সম্পন্ন করেছেন, যেখানে ইরানের সাথে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানকে দীর্ঘমেয়াদীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা, যা কেবল বর্তমান বা দুই বছর নয়, বরং একটি ব্যাপক সময়ের জন্য প্রযোজ্য। গত রোববার সফর শেষে, তিনি সোমবার সন্ধ্যায় মন্তব্য করেন, ‘ইরানের সঙ্গে কিছু ভালো কথা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় তেহরান কতটা নমনীয় হতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে ইরান কিছুটা নমনীয়তা দেখালেও, ‘যতটুকু দরকার ততটুকু এগোয়নি।’ পরবর্তী আলোচনার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই প্রশ্নটি ইরানকেই করা উচিত।
হোয়াইট হাউসের অবস্থান ও চ্যালেঞ্জসমূহ
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং আলোচনা দল যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি আরও সতর্ক করে দিয়েছেন যে ট্রাম্পের কার্যকর নৌ অবরোধের কারণে ইরানের মরিয়া ভাব বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষত যখন তেলের জাহাজগুলো সুন্দর গালফ অব আমেরিকার দিকে যাচ্ছে। আলোচনায় একটি বড় বাধা হলো ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র চায় এই জ্বালানি ইরানের বাইরে স্থানান্তরিত হোক, এমনকি ট্রাম্প ইসফাহানে স্থল সেনা পাঠানোর কথাও বিবেচনা করেছেন। তবে ইরান দৃঢ়ভাবে বলেছে যে জ্বালানি দেশের বাইরে যাবে না এবং তারা এটিকে পাতলা করে অস্ত্র তৈরির অযোগ্য করে দেবে।
২০১৫ সালের চুক্তির প্রেক্ষাপট ও বর্তমান প্রস্তাবের তাৎপর্য
২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তিতে পূর্ণ স্থগিতাদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সেই আলোচনা দলের সদস্য রব ম্যালি মন্তব্য করেছেন যে ‘কয়েক বছরের জন্যও যদি ইরান স্থগিত রাখে, সেটা ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়ে ভালো।’ ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘ভয়ঙ্কর, একতরফা চুক্তি যা কখনোই হওয়া উচিত হয়নি’ বলে বর্ণনা করে ২০১৮ সালে তা থেকে সরে আসেন। বর্তমান আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের দাবি যে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের প্রায় ৬০০ কোটি ডলার মুক্ত করুক, যা কাতারে আটকে আছে এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকা পড়েছে।
এই প্রস্তাবটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার গতি নির্ধারণ করবে এই প্রক্রিয়ার সাফল্য।



