ইরানের 'মরিয়া' অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায়: ট্রাম্প
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ইরান পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, তেহরান বর্তমানে 'খুবই মরিয়া' অবস্থায় রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি প্রধান অন্তরায়
দুই দেশের মধ্যকার চলমান অচলাবস্থা নিরসনে প্রধান অন্তরায় হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে চিহ্নিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, অনেকগুলো বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হতে পারলেও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলোতে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।
ইসলামাবাদে ব্যর্থ বৈঠক
এর আগে গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা দীর্ঘ আলোচনায় বসেন। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা এই ম্যারাথন বৈঠকটি কোনো চুক্তি বা সমঝোতা ছাড়াই রোববার সকালে শেষ হয়। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ সোমবার ইরানের সব বন্দরে কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অর্থনৈতিক চাপ ও আলোচনার সম্ভাবনা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বন্দর অবরোধের ফলে ইরান বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে, যার ফলে তারা পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহী হতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থান এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দুই দেশের বৈরিতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান সম্ভবত বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে, কিন্তু পারমাণবিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। ভবিষ্যৎ আলোচনার গতি নির্ভর করবে উভয় পক্ষের নমনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক চাপের উপর।



