হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানকে আহ্বান
হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলে ইরানকে আহ্বান

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানকে আহ্বান

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাতে এই অনুরোধটি উত্থাপন করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদিকে বাংলাদেশমুখী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান। এই বৈঠকে তাঁরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর আলোচনা করেন, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন।

উভয় পক্ষই অঞ্চল এবং এর বাইরের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে তাঁর দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন, যা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত বহন করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি

এর আগে, ১ এপ্রিল ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন যে ইরানের সরকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা জ্বালানিবাহী ছয়টি বাংলাদেশমুখী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন, 'ইরান চায় না বাংলাদেশিরা কোনো দুর্ভোগে পড়ুক এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালির চলমান পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল, যা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এই সময়ে প্রতিদিন মাত্র ৫ থেকে ১১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩০টি জাহাজ এই প্রণালি পার হতো।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও প্রণালি দিয়ে দৈনিক জাহাজ চলাচল ৭ থেকে ১১টির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের জ্বালানি আমদানি এই প্রণালির মাধ্যমে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

এই প্রেক্ষাপটে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আহ্বানটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে এই আলোচনা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং অঞ্চলের শান্তি রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।