মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতে, ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখনো সম্ভব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মনে করেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি এখনো সম্ভব, যদিও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে অনিচ্ছুক ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভ্যান্স শেষ প্রস্তাব দিয়েই আলোচনা ছেড়ে আসেন, কিন্তু চুক্তির পথ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
আলোচনার সারসংক্ষেপ ও মূল ইস্যু
ওই মার্কিন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ভ্যান্সের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ২১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইসলামাবাদে আলোচনা চালায়। দলে বিশেষ দূত স্টেভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারও উপস্থিত ছিলেন। ভ্যান্সের মতে, ইরান আলোচনায় নিজেদের প্রভাব বা 'লেভারেজ' সঠিকভাবে বুঝতে পারছে না, যা অচলাবস্থার একটি মূল কারণ।
আলোচনায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। এসব ইস্যুর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করা
- আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ে একটি বিস্তৃত শান্তি কাঠামো তৈরি
- হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার এমন সমাধান যেখানে কোনো টোল আরোপ করা হবে না
ট্রাম্পের মন্তব্য ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, 'আমরা প্রায় সব বিষয়েই সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, শুধু তারা তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।' এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে পারমাণবিক কর্মসূচি মূল বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি সমাধান না হয়, তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার মতো ঘটনা ঘটতে পারে, যা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে।
সামগ্রিকভাবে, ভ্যান্সের আশাবাদ সত্ত্বেও, বর্তমান পরিস্থিতি জটিল ও অনিশ্চিত। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপগুলোর উপর নির্ভর করবে শান্তি ও নিরাপত্তার গতি।



