ইরানি রাষ্ট্রদূতের আশ্বাস: আটকা বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালি পার করবে
আটকা বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ পার করবে: ইরানি রাষ্ট্রদূত

ইরানি রাষ্ট্রদূতের আশ্বাস: আটকা বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালি পার করবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় রোববার বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত এক শোক সমাবেশে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজগুলোকে দ্রুত মুক্ত করতে ইরান সহযোগিতা করবে। যুদ্ধাবস্থার কারণে প্রণালিতে বহু জাহাজ অপেক্ষারত থাকলেও বাংলাদেশের জাহাজগুলো অতি শীঘ্রই পার হতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক ও আলোচনার প্রসঙ্গ

রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ককে ভাইয়ের দেশের মতো উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো শত্রুতা নেই। তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিষয়ে ধন্যবাদ জানান, তবে শর্তসাপেক্ষে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ইরান মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা করতে প্রস্তুত, অন্যথায় তারা অংশ নেবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

মার্কিন-ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা

সমাবেশে ইরানি রাষ্ট্রদূত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে, স্কুল, হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করে নিরীহ শিশু ও সাধারণ মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ইরান এসব হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তারা যুদ্ধ চায় না, কারণ যুদ্ধে বিশ্ববাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশেষ অতিথি জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসানও মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিশুদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলা হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমাবেশের অন্যান্য দিক

এই আবেগঘন প্রতিবাদী কর্মসূচিতে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় শহীদ ইরানি শিশুদের স্মরণে প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুল ব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। শিক্ষার্থীরা ইরানি শিশুদের রক্ষায় রক্ত ভেজা হাতের ছাপ দিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে ইরানের কালচারাল কাউন্সেলরসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বাংলাদেশি জাহাজ মুক্তির আশ্বাস ছাড়াও ইরানের প্রতি মার্কিন নীতির ব্যর্থতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। এই ঘটনা বাংলাদেশ-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।