ইরানের মুখপাত্র: এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হবে, কেউ আশা করেনি
ইরানের মুখপাত্র: এক বৈঠকে চুক্তি হবে, কেউ আশা করেনি

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এক বৈঠকেই শেষ হয়ে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি হবে—এমনটা কেউই আশা করেনি। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেল আআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈঠকের ফলাফল ও প্রতিক্রিয়া

ইসমাইল বাঘাই সাক্ষাৎকারে বলেন, 'স্বাভাবিকভাবেই, শুরু থেকেই একটি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের করা উচিত ছিল না এবং শুধু আমরাই নই—কেউই এমনটা আশা করেনি।' তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে যোগ করেন, 'আমাদের বিশ্বাস, পাকিস্তান এবং এ অঞ্চলে অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।'

৪০ দিনের সংঘাতের প্রেক্ষাপট

তিনি আরও উল্লেখ করেন, '৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতের পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা অবিশ্বাস ও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে হয়েছে। এক বৈঠকেই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব এমন আশা করা স্বাভাবিক ছিল না। কেউই তা আশা করেনি।' এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বাঘাই বলেছিলেন, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্কিন প্রতিনিধির বক্তব্য

'ইসলামাবাদ টকস' শিরোনামে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত এ আলোচনা চলে। আলোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, 'আমরা এখন পর্যন্ত ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে—এটাই ভালো খবর। তবে খারাপ খবর হলো, আমরা এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চুক্তির শর্তাবলি

ইরানের মুখপাত্রের মতে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য শুধু আন্তরিকতার ওপরই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ও অবৈধ শর্ত থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থকে মেনে নেয়ার ওপরও নির্ভরশীল। তিনি বলেন, 'বেশ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।'

এই আলোচনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এখনো চূড়ান্ত সমাধান পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে অব্যাহত যোগাযোগ ও আলোচনা ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।