যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তিসহ দেশবিরোধী সব গোপন ও অসম চুক্তি বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যৌথভাবে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছে। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংগঠনগুলোর নেতারা তাদের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন।
বন্দর ইজারা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তীব্র প্রতিবাদ
সমাবেশে বক্তারা দেশের কৌশলগত সম্পদ বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন যে, বন্দর ইজারা বন্ধ না করলে তারা তা প্রতিহত করবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মাত্র দুই-তিন দিন আগে দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বাণিজ্যচুক্তি করেছে।
বাহাউদ্দিন শুভ আরও বলেন, "দেশের জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কৌশলগত সম্পদ বন্দর ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বাণিজ্যচুক্তি করে দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছে। যার নমুনা হিসেবে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।" তিনি দাবি করেন, এই বাণিজ্যচুক্তিসহ দেশবিরোধী সব গোপন চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং বন্দর ইজারা দেওয়ার চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে, নতুবা বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অতীতের মতো তা প্রতিহত করা হবে।
গোলামির চুক্তি আখ্যা দিয়ে যুব ইউনিয়নের তীব্র সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তিকে গোলামির চুক্তি আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "একটা রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক ইউনূস তথাকথিত আশীর্বাদ হয়ে দেশে এসেছিলেন। এসেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করেছেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অধ্যাপক ইউনূস তাঁর প্রভু যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত করতেই মূলত ১৮ মাস সময় নিয়েছেন এবং দায়িত্ব নিয়েই তাঁর প্রতিষ্ঠানের ৬০০ কোটির টাকার ওপর কর মওকুফ করে নিয়েছেন।
খান আসাদুজ্জামান মাসুম দৃঢ়ভাবে বলেন, "আর যাওয়ার আগে দিয়ে দেশের জনগণকে সাম্রাজ্যবাদের অধীন করে গেছেন। এই গোলামির চুক্তি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছেন তাঁরা।" তাঁর এই মন্তব্য সমাবেশে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
উদীচীর সাধারণ সম্পাদকের তীব্র ভাষায় নিন্দা
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে সভাপতির বক্তব্যে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে ১৪টি চুক্তি করেছে, যেগুলো দেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তির ভেতর দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে গেছেন। তিনি মূলত বিদেশি প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করতেই ক্ষমতায় বসেছিলেন।"
অমিত রঞ্জন দে আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, "যার ফলে বেশি দাম দিয়ে নিম্নমানের যুক্তরাষ্ট্রের গম কিনতে হচ্ছে। জ্বালানি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হচ্ছে। এটি যদি দাসত্ব না হয় তবে আর কী হতে পারে?" তাঁর এই প্রশ্ন সমাবেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
সমাবেশের আয়োজন ও নেতৃত্ব
এই বিক্ষোভ সমাবেশটি উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি বাতিল এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবি জোরালোভাবে উঠে আসে।
সংগঠনগুলোর এই যৌথ আয়োজন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে তাদের সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন ঘটায়। তারা দাবি করে যে, দেশবিরোধী চুক্তিগুলো বাতিল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।



