যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করে কিউবার প্রেসিডেন্ট পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রচণ্ড চাপ ও হুমকির মুখেও কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল পদত্যাগ করবেন না বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। একটি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসি নিউজকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কিউবা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং বিপ্লবীদের অভিধানে পদত্যাগ বলে কোনও শব্দ নেই।
মার্কিন নীতির তীব্র সমালোচনা
বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ৬৫ বছর বয়সী এই নেতা আরও বলেন, 'আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মর্জির ওপর নির্ভরশীল নই। যে মার্কিন সরকার কিউবার বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন নীতি গ্রহণ করেছে, কিউবার কাছে কিছু দাবি করার মতো নৈতিক অবস্থান তাদের নেই।' তিনি মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনা করে উল্লেখ করেন যে, কিউবা তার চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদন করতে পারে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
জ্বালানি সংকট ও রাশিয়ার সহায়তা
জানুয়ারি মাসে ভেনিজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কিউবায় ভয়াবহ জ্বালানি সংকট চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর এক প্রকার কার্যত তেল অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। এমনকি কোনও দেশ কিউবার কাছে তেল বিক্রি করলে তাদের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার কিউবা সফর করেছেন রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। দিয়াজ-কানেলের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, 'আমরা কিউবাকে কোনোভাবেই ত্যাগ করতে পারি না। কিউবার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার প্রশ্নই আসে না। ওয়াশিংটন যাই বলুক না কেন, পশ্চিম গোলার্ধে রাশিয়ার স্বার্থ থেকে আমরা পিছিয়ে আসব না।'
রুশ তেল সরবরাহ ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া
গত মার্চ মাসের শেষে অ্যানাতোলি কোলোডকিন নামের একটি রুশ ট্যাঙ্কার ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে কিউবায় পৌঁছায়। রিয়াবকভ জানিয়েছেন, কিউবার জন্য রাশিয়ার সহায়তা কেবল একটি জাহাজে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধকে 'অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য' হিসেবে বর্ণনা করেন।
এদিকে রুশ তেলের ট্যাঙ্কারটি কিউবায় ভেড়ার অনুমতি দিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষায়, 'কিউবা শেষ হয়ে গেছে।' তিনি ওই সময় বলেছিলেন, কিউবায় একটি খারাপ শাসনব্যবস্থা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব রয়েছে। তারা এক জাহাজ তেল পেলো কি পেলো না, তাতে কিছু যায় আসে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার কিউবা 'দখল' করার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং দেশটির নেতাদের মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেলের এই স্পষ্ট অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।



