নবম ভারত মহাসাগর সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, জাতিসংঘ প্রার্থিতার সমর্থন চাইবেন
ভারত মহাসাগর সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতিসংঘ প্রার্থিতা

নবম ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নিতে মরিশাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নবম ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নিতে মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে পৌঁছেছেন। শুক্রবার শুরু হওয়া এই সম্মেলনে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার সমর্থন চাইবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্মেলনের উদ্দেশ্য ও অংশগ্রহণকারী

এই সম্মেলনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা সমবেত হয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা, অভিন্ন দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নিয়ে আলোচনা করবেন। ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, মরিশাস সরকার এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, 'সম্মেলনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঢাকা এই প্ল্যাটফর্ম কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার সমর্থন আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সফরসঙ্গী ও পূর্ববর্তী কার্যক্রম

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। ড. খলিলুর রহমান বুধবার নয়াদিল্লিতে একাধিক বৈঠক শেষে মরিশাসে যান, যেখানে তিনি ভারতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করও এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন এবং অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। তার আমন্ত্রণে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালও বক্তব্য রাখবেন, যা আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বকে আরও জোরদার করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সম্মেলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

২০১৬ সালে শুরু হওয়া ভারত মহাসাগর সম্মেলনটি বর্তমানে প্রায় ৩০টি দেশের সমন্বয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এটি অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই সম্মেলন শুধুমাত্র কূটনৈতিক আলোচনার জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর দেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও প্রসারিত করবে।