ইরান-মার্কিন চুক্তিতে আমিরাতের শর্ত: হরমুজ প্রণালির অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে
ইরান-মার্কিন চুক্তিতে আমিরাতের শর্ত: হরমুজ প্রণালির অবাধ চলাচল

ইরান-মার্কিন চুক্তিতে আমিরাতের শর্ত: হরমুজ প্রণালির অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে

চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যেকোনো শান্তি চুক্তিতে হরমুজ প্রণালির অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সতর্ক করে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথকে কোনো দেশই 'জিম্মি' হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না। দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরাতের এই অবস্থান যুদ্ধবিরতির চেয়ে স্থায়ী সমাধানকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার বিষয়

সম্প্রতি এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে আনোয়ার গারগাশ জানান, আমিরাত যুদ্ধের অবসান চায়, তবে তা যেন কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি না হয়। তিনি বলেন, 'আমরা এমন কোনো চুক্তি চাই না যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মতো মূল সমস্যাগুলোকে আড়ালে রেখে দেয়। এগুলো সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্য আরও বেশি বিপজ্জনক ও অস্থির হয়ে উঠবে।'

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। গারগাশের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা কেবল আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো দেশই এই জলপথকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা যেকোনো শান্তি চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের হুশিয়ারি ও চলমান হামলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রবিবার তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে এক হুশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ইরানকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে চুক্তি না করলে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে তেহরানে 'নরক' নামিয়ে আনা হবে। অন্যদিকে, গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আমিরাত সবচেয়ে বেশি ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। আনোয়ার গারগাশ বলেন, আমিরাতের জন্য এটি ছিল 'সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি', যা এখন বাস্তবে ঘটছে। তবে তিনি দাবি করেন, এই চাপের মধ্যেও আমিরাতের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক জোরদার

ইরানের এই কৌশল আরব দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরানোর বদলে উল্টো ওয়াশিংটনের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেন গারগাশ। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রই আমিরাতের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে থাকবে। এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পরিশেষে তিনি বলেন, আমিরাত ইরানের সাথে শত্রুতা চায় না, তবে বর্তমান তেহরান সরকারের ওপর আস্থা রাখা অসম্ভব। তাদের এই ধ্বংসাত্মক নীতি কেবল শাসকগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য, দেশের মঙ্গলের জন্য নয়। এই পরিস্থিতিতে আমিরাতের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট:

  • হরমুজ প্রণালির অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে
  • ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক হুমকি সমাধান করতে হবে
  • যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব জোরদার করা হবে
  • অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির বদলে স্থায়ী শান্তি চুক্তি কাম্য

এই সংকটে আমিরাতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দেশটি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমিরাতের এই দাবি একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠাচ্ছে যে, আঞ্চলিক সংঘাতের সমাধান কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও হতে হবে।