যুক্তরাষ্ট্র-চীন মোকাবিলায় মাখোঁর আহ্বান: গণতান্ত্রিক দেশগুলোর 'স্বাধীন জোট' গঠন
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ যুক্তরাষ্ট্রের 'অনিশ্চয়তা' এবং চীনের 'আধিপত্যের' বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিশ্বের অন্যান্য বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য একটি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বিরোধের প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া সফরে মাখোঁর বক্তব্য
এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মাখোঁ, যেখানে তাঁরা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। এরপর সিউলের ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় ফরাসি নেতা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই দুই 'আধিপত্যবাদী শক্তির' অনুগত বা পদানত হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করা।
প্রস্তাবিত জোটের সম্ভাব্য সদস্য ও লক্ষ্য
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাখোঁ মনে করেন যে মধ্যম সারির দেশগুলো চীনের আধিপত্যের ওপর নির্ভর করতে চায় না, আবার একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তার কাছেও নিজেদের খুব বেশি সঁপে দিতে রাজি নয়। এই প্রেক্ষিতে তিনি একটি 'স্বাধীন জোট' গঠনের প্রস্তাব দেন, যার সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে নিম্নলিখিত দেশগুলোর নাম উল্লেখ করেন:
- ইউরোপীয় দেশসমূহ
- জাপান
- দক্ষিণ কোরিয়া
- অস্ট্রেলিয়া
- ব্রাজিল
- কানাডা
- ভারত
মাখোঁর মতে, এই দেশগুলোর গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন, এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার মতো বিভিন্ন ইস্যুতে অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে, যা তাদেরকে একটি শক্তিশালী জোট গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই আহ্বান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে মাখোঁর এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও কৌশলগত দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে একটি বিকল্প পথ নির্দেশ করতে পারে। তবে এই জোট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জও রয়েছে, কারণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের পার্থক্য থাকতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এমানুয়েল মাখোঁর এই উদ্যোগ বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক শিবিরকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।



