বাংলাদেশের পাঁচ রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার: মাত্র এক জন ফিরেছেন, বাকিদের ফেরা নিয়ে গুঞ্জন
গত মাসে পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করে সদর দপ্তর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় বদলি করা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকেও প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রায় এক মাস পার হলেও বেশির ভাগ রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার দেশে ফেরেননি।
কেবল মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত ফিরেছেন
সূত্রমতে, শুধু মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করেছেন। বাকি চার জন রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার কবে দেশে ফিরবেন, সেটা নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চলছে। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বাকি রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা শিগগিরই দেশে ফিরছেন।
প্রত্যাহারের বিস্তারিত বিবরণ
গত ৮ মার্চ পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম মাহফুজুল হক, মো. ময়নুল ইসলাম, এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) এবং মো. নাজমুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে সদর দপ্তর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় বদলি করা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়। এসব রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে অতিসত্ত্বর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা
সরকারের সিদ্ধান্তের পরও এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) ছাড়া আর কেউ এখনো দেশে ফেরেননি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাকি চার জন শিগগিরই দেশে ফিরবেন। তারা সবাই বন্ধুভাবাপন্ন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের ফিরে না আসার কোনো কারণ নেই বলে দাবি করা হচ্ছে।
অতীতের ঘটনার প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বেশ কয়েক জন রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময় বেশ কয়েক জন রাষ্ট্রদূত দেশে না ফিরে বিদেশে আশ্রয় নিয়ে থেকে গিয়েছিলেন। এই ঘটনা বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করছেন যে, বাকি রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা দ্রুত দেশে ফিরে আসবেন এবং তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে। তবে তাদের ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও গুঞ্জন এখনো বিদ্যমান, যা কূটনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



