বাংলাদেশ-জাপান বৈঠকে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চুক্তির অগ্রগতি
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নিতে শুক্রবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠক দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বিত চুক্তি চূড়ান্তকরণের দিকে নতুন গতি সঞ্চারের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকের অংশগ্রহণকারীগণ
বৈঠকটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে অংশগ্রহণ করেন পররাষ্ট্র সচিব ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এছাড়াও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ আলোচনায় অংশ নেন। জাপানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী উপমন্ত্রী নাকায়ামা রিয়েকো।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বৈঠকটি টার্মিনাল পরিচালনার অপারেশনাল ও আর্থিক দিকগুলির উপর মনোনিবেশ করেছিল। উভয় পক্ষই বিদ্যমান সমস্যাগুলি সমাধান করে পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।
এই সর্বশেষ বৈঠকটি ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত একটি পূর্ববর্তী বৈঠকের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা প্রায় সম্পন্ন টার্মিনালটিকে কার্যক্রমে আনার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিফলন ঘটায়।
চুক্তির গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালটি বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। এই টার্মিনালের সুষ্ঠু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে জাপানের সাথে চুক্তি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিগণ চুক্তির বিভিন্ন শর্তাবলী নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছেন এবং একটি সমাধানমূলক পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। এই আলোচনা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলির সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং জাপানি প্রতিনিধিদলের সহযোগিতামূলক মনোভাব চুক্তি চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।



