প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ওমান সফরে, সুলতানের কাছে বাংলাদেশের সংহতি বার্তা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওমানের সুলতান হাইসাম বিন তারিকের কাছে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছেন, যাতে বাংলাদেশ বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে ওমানের নেতৃত্ব, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তার চিঠিতে ওমান সরকারের জন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেছেন, যদি ওমানি কর্তৃপক্ষ তা উপযোগী বিবেচনা করে।
বিশেষ দূতের মাধ্যমে চিঠি হস্তান্তর
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বুধবার ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর বিন হামাদ বিন হামুদ আলবুসাইদির সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। এই বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ওমানের সুলতানের উদ্দেশ্যে লেখা ব্যক্তিগত চিঠিটি হস্তান্তর করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তার চিঠিতে ওমানের উপর হামলা এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তায় ওমানের ভূমিকার প্রশংসা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওমান সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যারা বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে আতিথেয়তা প্রদান করছেন এবং তাদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ওমান সরকারের এই অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে।
আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওমানের ভূমিকা
বৈঠকের সময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তিতে ওমানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি আঞ্চলিক পর্যায়ে শান্তি, সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ওমানের অবদানেরও স্বীকৃতি দেন। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় বাংলাদেশ ও ওমানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উৎকর্ষ নিয়েও বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার
বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অত্যন্ত উৎকৃষ্ট বলে উল্লেখ করা হয় বৈঠকে। দুই দেশই পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার জন্য একটি সম্মিলিত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে হুমায়ুন কবির বর্তমানে একাধিক উপসাগরীয় দেশ সফর করছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রধানমন্ত্রীর বার্তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বাংলাদেশের এই অঞ্চলের সাথে সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় করা।
এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার অগ্রাধিকার ও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষ দূতের এই কার্যক্রম বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।



