ইরানে সেনা পাঠানো নাকচ, সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চান না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি ইরানে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের যেকোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন এবং সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। স্টারমার জোর দিয়ে বলেছেন, 'এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়াতে যাচ্ছি না।'
মিত্রহীন হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ইরানে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রহীন হয়ে পড়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তিনি কোনো বন্ধু রাষ্ট্র থেকে সহযোগিতা পাননি। এমনকি ন্যাটোও ইরান সংঘাতে সরাসরি পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের নতুন অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা
স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য 'ব্রিটিশ জীবন, ব্রিটিশ স্বার্থ ও এই অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের' রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, ব্রিটেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে, তবে পুনরায় জোর দেন যে 'আমরা এই যুদ্ধে টেনে হিঁচড়ে জড়াতে চাই না।'
যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন
যাইহোক, স্টারমার নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ সরকার কিছু সীমিত সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে হুমকির সঙ্গে জড়িত ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এছাড়াও, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করতে যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে, যা একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষত যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হচ্ছে। স্টারমারের বক্তব্য যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র নীতির একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে, যা সরাসরি সামরিক জড়ানো এড়িয়ে কৌশলগত সহায়তার উপর জোর দিচ্ছে।



