ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের মার্কিন অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে মন্তব্য
পেজেশকিয়ান: যুক্তরাষ্ট্র নিজের অস্থিরতার দিকে নজর দিন

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের উচিত নিজেদের ভেতরের অস্থিরতার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া। পেজেশকিয়ান দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বাড়ছে, বিশেষ করে ইসরাইলপন্থী নীতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ জমছে।

সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে বিক্ষোভের প্রসঙ্গ

রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান ‘নো কিংস’ নামের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তোলেন। তার মতে, এই আন্দোলন প্রমাণ করে যে মার্কিন জনগণের একটি অংশ দেশের নীতিনির্ধারণে বিদেশি প্রভাব নিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞদের উচিত ট্রাম্পকে জানানো যে, অনেক মার্কিন নাগরিক ইসরাইলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির বিরোধিতা করছে এবং এ কারণে তারা প্রতিবাদে নেমেছে।

মার্কিন গণতন্ত্রে ইসরাইলি প্রভাব

পেজেশকিয়ানের ভাষায়, মার্কিন গণতন্ত্রে ‘ইসরাইলি প্রভাব’ নিয়ে জনগণ বিরক্ত হয়ে উঠছে। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চলমান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের পাল্টা হামলা ও চলমান সংঘাত

এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এক মাসেরও অধিক সময় ধরে এই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এদিকে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরব পরিস্থিতি শান্ত করতে উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার অভাবের কারণে ইরান এখনো আলোচনায় বসতে অনাগ্রহী বলে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়ছে। পেজেশকিয়ানের মন্তব্য মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে আলোকপাত করার পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জটিলতাকেও তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বৈরিতার আরেকটি প্রকাশ।

ইরানের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্তব্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। চলমান সংঘাত ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।