প্রধানমন্ত্রীর কাতার সফর: বাংলাদেশের সংহতি ও শ্রমিক কল্যাণের বার্তা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উদ্দেশে লেখা এক ব্যক্তিগত চিঠিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কাতারের নেতৃত্ব, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন। এই চিঠি হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, যিনি রবিবার দোহায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর মূল বক্তব্য
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতারে বসবাসরত প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাতারি কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কাতার যদি প্রয়োজনীয় মনে করে তবে বাংলাদেশ যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও মে মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জরুরি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে স্থানান্তরে কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার উদারতা। তিনি এই মানবিক পদক্ষেপের জন্য গভীর প্রশংসা ব্যক্ত করেছেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির সাথে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি হস্তান্তর করেন। বৈঠকে তিনি কাতারের শান্তি, সংলাপ ও মানবিক কূটনীতিতে গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে বিদ্যমান উত্তম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর করার উপায় পর্যালোচনা করেন।
হুমায়ুন কবির কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলি বিন সাইদ বিন সামিখ আল মাররির সাথেও বৈঠক করেন। তিনি সম্প্রতি একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মন্ত্রীর পরিবারের শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান। বৈঠকে তিনি শ্রমমন্ত্রীকে সুবিধামতো সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণে আলোচনা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা পরে দোহাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেন এবং কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিদেশ মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে যে, হুমায়ুন কবির কাতার সফর শেষে আরও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ সফর করতে পারেন।
এই সফর ও চিঠি বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ এই আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।



