পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নামে ছড়ানো ভুয়া ফটোকার্ড: মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বক্তব্য
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের বক্তব্যের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় এই অপতথ্যের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা জারি করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজবের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কয়েকটি ভুয়া ফটোকার্ড ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ফটোকার্ডে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের বক্তব্যের নামে পুরোপুরি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করেছে যে, প্রতিমন্ত্রী কখনোই এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করেননি।
ভুয়া ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছিল, ‘ইন্ডিয়ার সঙ্গে আমাদের চোখ নিচু করেই কথা বলতে হবে, এই যেমন এখন ইন্ডিয়ার হাতে পায়ে ধরে তেল আনতে হচ্ছে, গাধার মতো দিল্লি না ঢাকা স্লোগান দিলেই তো হবে না। বুঝতে হবে যে ইন্ডিয়ার সঙ্গে ঝামেলা করলে আমাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ে যাবে।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছে।
বিভ্রান্তি এড়াতে মন্ত্রণালয়ের আহ্বান
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব অপতথ্য ও গুজবে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জনগণকে অনুরোধ করেছে, শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য গ্রহণ করতে এবং সামাজিক মাধ্যমের অপ্রমাণিত খবর বিশ্বাস না করতে।
প্রকৃত পররাষ্ট্রনীতির ব্যাখ্যা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকৃত অবস্থা ব্যাখ্যা করে বলেছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে সব রাষ্ট্র ও সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই এই নীতির প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মেরুদণ্ড সোজা করে সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে, কথোপকথন চালাবে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো দেশের প্রতি আনুগত্য বা নতিস্বীকারের পরিবর্তে স্বাধীন ও সমমর্যাদাপূর্ণ কূটনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের গুজব ও অপপ্রচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সরকারের কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধির বক্তব্য শুধুমাত্র সরকারি চ্যানেল বা নির্ভরযোগ্য মাধ্যম থেকেই যাচাই করা উচিত।



