জাপানের পরমাণু বোমা সারভাইভারদের যুদ্ধবিরতি আহ্বান, ইসরায়েল দূতাবাস চিঠি ফেরত দিল
জাপানি পরমাণু সারভাইভারদের যুদ্ধবিরতি আহ্বান, ইসরায়েল চিঠি ফেরত

জাপানের পরমাণু বোমা সারভাইভারদের যুদ্ধবিরতি আহ্বান, ইসরায়েলি দূতাবাস চিঠি প্রত্যাখ্যান

জাপানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পরমাণু বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শান্তি স্থাপনের জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি দূতাবাসে বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন, যা রোববার (২৯ মার্চ) আনাদোলু বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়েছে।

চিঠি পাঠানো ও ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যান

জাপানের চারটি প্রধান পরমাণু বেঁচে যাওয়া সংগঠন এই চিঠিতে স্বাক্ষর করলেও টোকিওতে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস চিঠিটি গ্রহণ করতে সরাসরি অস্বীকার করেছে। জাপানি সংবাদমাধ্যম দ্য মেইনিচি জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ চিঠিটি না পড়েই ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে, যা নাগাসাকি অ্যাটমিক বোম্ব সারভাইভারস কাউন্সিলের ৮৫ বছর বয়সী প্রধান শিগেমিৎসু তানাকাকে ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি বলেন, "ইসরায়েল অত্যন্ত সংকীর্ণমনা আচরণ করছে এবং শান্তির এই বার্তাকে তারা ন্যূনতম গুরুত্ব দেয়নি।"

চিঠির বিষয়বস্তু ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

চলতি মাসের শুরুর দিকে পাঠানো এই চিঠিতে জাপানি সংগঠনগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানায় এবং চলমান হামলাগুলোকে ‘ভয়াবহ ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১,৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও রয়েছেন। এই যুদ্ধের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এবং ইরান পাল্টা জবাবে ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টোকিওতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও শোকসভা

জাপানি নাগরিকদের পক্ষ থেকে যুদ্ধের এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে টোকিওতে ‘ড্রপ বাস নট বোম্বস’ শিরোনামে একটি বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ‘যুদ্ধ শেষ হবে যদি আপনি চান’, ‘বর্ণবাদ নয়’ এবং ‘যুদ্ধ বন্ধ করো’ লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও পতাকা নিয়ে সড়কে নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) আয়োজকদের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, সাধারণ জাপানিরা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরছেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই গণবিক্ষোভ মূলত বৈশ্বিক শক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জাপানি জনগণের দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।

অন্যদিকে, জাপানে নিযুক্ত ইরানের দূতাবাস রোববার জানিয়েছে যে, ইরানি প্রবাসী ও জাপানি নাগরিকরা সম্মিলিতভাবে তেহরান দূতাবাসে একটি শোকসভার আয়োজন করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে ইরানের মিনাব শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ১৬৫ জনের বেশি স্কুলছাত্রীর স্মরণে এই শোকসভার আয়োজন করা হয়।

জাপানের শান্তিপ্রিয় অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

জাপানে অবস্থিত শান্তিপ্রিয় বিভিন্ন গোষ্ঠী মনে করে যে, পরমাণু বোমার ভয়াবহতা দেখা একটি জাতি হিসেবে জাপান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। তাই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ থেকেও এই যুদ্ধের ইতি টানার জন্য ক্রমাগত দাবি উঠছে। জাপানের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক শান্তি আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।