ইরানের নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভির মার্কিন চুক্তি সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তি না করতে সতর্ক করেছেন দেশটির নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি। তাঁর মতে, এই সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করা মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাকে গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলবে। গতকাল শনিবার টেক্সাসে রক্ষণশীল রিপাবলিকান সংগঠন কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সের (সিপিএসি) বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে পাহলভির বক্তব্য ও জনসমর্থন
রেজা পাহলভি মঞ্চে উঠলে উপস্থিত জনতা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়। তিনি ইরানকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করেন এবং ইরানি জনগণকে আবারও রাজপথে নামার আহ্বান জানান। পাহলভি বলেন, ‘ইরানের এই শাসনব্যবস্থা শুধু সময়ক্ষেপণ, প্রতারণা ও লুটপাটের ওপর টিকে আছে। তারা কখনো শান্তির পথে সৎ সঙ্গী হতে পারবে না। আলোচনার নাটক করবে ঠিকই, কিন্তু পরে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’
ট্রাম্পের মন্তব্য ও পাহলভির প্রতিক্রিয়া
চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রতি দুই বছর অন্তর ইরানের হুমকির মুখোমুখি হতে চান না বলেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ মন্তব্যের সূত্র ধরে পাহলভি বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার অর্থ হবে আবারও একই বিপদ ডেকে আনা। তিনি আরও যোগ করেন, একটি মুক্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে এবং কল্পনা করুন—ইরানের মানুষ ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ বলার বদলে ‘ঈশ্বর যুক্তরাষ্ট্রের মঙ্গল করুন’ বলছে।
পাহলভির ব্যক্তিগত অবস্থান ও ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রেজা পাহলভি ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহ পলাতক প্রয়াত মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির ছেলে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ৬৫ বছর বয়সী পলাতক শাহর এই ছেলে ৪৫ বছর পর দেশে ফেরার পথ খুঁজছেন এবং নিজেকে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের যোগ্য নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে ইরানের বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত, যা তাঁর নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এর আগে পাহলভির নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, তাঁর মতে, ইরানের ভেতর থেকে কেউ উঠে এলে সেটা বেশি কার্যকর হতে পারে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংকট ও ইরানের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ
বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিজ দেশে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ায় যুদ্ধের এক মাসের মাথায় কঠিন সংকটে পড়েছেন ট্রাম্প। তাঁকে হয় একটি নড়বড়ে চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে হবে, নয়তো দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের ঝুঁকি নিতে হবে। পাহলভির বাবা রেজা শাহ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার হিসেবে ছিলেন বলে ব্যাপকভাবে প্রচলতি আছে, ইরানের স্বার্থের চেয়ে তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন এবং ইরানের তেলসম্পদকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আহ্বান
গত জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া পাহলভি বলেন, ‘সঠিক সময় এলে আমি আবারও জনগণকে গর্জে ওঠার ডাক দেব। তারা তাদের দেশ, সম্মান আর ভবিষ্যৎ ছিনিয়ে নেবে।’ তাঁর এই বক্তব্য ইরানের রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি সক্রিয় ভূমিকা প্রতিফলিত করে।



