ইরান-পাকিস্তান নেতাদের ফোনালাপ: যুদ্ধ বন্ধে 'আস্থা তৈরি'র ওপর জোর
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে অংশ নিয়েছেন। এই ঘণ্টাব্যাপী কথোপকথনে উভয় নেতা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার পথ সুগম করতে 'আস্থা তৈরি'র ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ইসরায়েলের চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।
আলোচনা ও মধ্যস্থতা সহজতর করতে পারস্পরিক আস্থা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে শনিবার জানানো হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শাহবাজ শরিফের 'আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা'র প্রশংসা করেছেন। পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, 'আলোচনা ও মধ্যস্থতা সহজতর করার জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা জরুরি।' তিনি শান্তি রক্ষায় পাকিস্তানের সহযোগিতামূলক ভূমিকার জন্য শরিফকে ধন্যবাদ জানান, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ইরানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ দেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তার গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। এছাড়াও, ফোনালাপের শুরুতে শরিফ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং ১ হাজার ৯০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সম্মেলন
এদিকে, ইরান যুদ্ধ বন্ধে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর মধ্যেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামীকাল রোববার শুরু হচ্ছে একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সম্মেলন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে ইসলামাবাদে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বিবৃতিতে বলা হয়, ২৯ ও ৩০ মার্চ সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, তুরস্কের হাকান ফিদান ও মিসরের বদর আবদেলাত্তি ইসলামাবাদে অবস্থান করবেন।
এই চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর নিবিড় আলোচনায় অংশ নেবেন:
- আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।
- নিজেদের মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতা জোরদার করার উপায় খুঁজে বের করা।
- বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করা।
এই সম্মেলনটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাকিস্তানের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।



