ইরানের বিরুদ্ধে 'চূড়ান্ত পরিণতি'র আহ্বান জানালেন আমিরাতের রাষ্ট্রদূত
ইরানের বিরুদ্ধে 'চূড়ান্ত পরিণতি'র আহ্বান আমিরাতের

ইরানের বিরুদ্ধে 'চূড়ান্ত পরিণতি'র আহ্বান জানালেন আমিরাতের রাষ্ট্রদূত

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল-ওতাইবা ইরানের ওপর চলমান ইসরাইলি-মার্কিন যুদ্ধে একটি সাধারণ যুদ্ধবিরতিকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন। পরিবর্তে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে একটি 'চূড়ান্ত পরিণতি'র আহ্বান জানিয়েছেন, যা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সন্ত্রাসী প্রক্সি এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ অবরোধের মতো হুমকিগুলো মোকাবিলা করবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত নিবন্ধের মূল বক্তব্য

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ওতাইবা যুদ্ধের দায়ভার ইরানের ওপর চাপিয়েছেন এবং আমিরাতকে এই সংঘাতের 'সম্মুখ সারিতে' অবস্থানকারী হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে ইরান আমিরাতের দিকে ২ হাজার ১৮০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং তাদের প্রক্সিরা দুর্বল হয়ে পড়েছে, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি দূর করতে আরও অনেক কিছু করা দরকার।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও সমালোচনা

২০২০ সালে 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এর মাধ্যমে আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে আবুধাবি ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থান পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে সৌদি আরবে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সৌদি আরবে একজন শিক্ষাবিদ আমিরাতকে 'জায়নবাদের কোলে' ঝাঁপিয়ে পড়ার এবং 'ইসরাইলের ট্রোজান হর্স' হিসেবে কাজ করার অভিযোগ করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ আরব লীগ এবং ওআইসির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'এই অনুপস্থিতি ও অক্ষমতার পর পরবর্তীতে আরব ও ইসলামি ভূমিকার পতন নিয়ে কথা বলা বা আমেরিকান ও পশ্চিমা উপস্থিতির সমালোচনা করা অগ্রহণযোগ্য।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলগত ঝুঁকি

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আমিরাতের এই কঠোর বক্তব্যের পেছনে একটি গভীর কৌশলগত ঝুঁকি রয়েছে। দেশটি তার অর্থনৈতিক মডেল স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ভাবমূর্তির ওপর গড়ে তুললেও ইরানের পাল্টা হামলা সেই ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, 'আমিরাত এখন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করতে চায় যে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে; অথচ বাস্তবে তারা ইরানের বেপরোয়া সামরিক অভিযানের বিপরীতে কেবল মৌখিক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।'

ক্রিগ আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক অভিযানে অর্থবহ অবদান রাখার মতো কৌশলগত গভীরতা ও সক্ষমতা আমিরাতের একার নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে যেকোনো ব্যবস্থায় তিনি উপসাগরীয় অংশীদারদের সরিয়ে দিতে পারেন।

অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে আমিরাতের অর্থনীতিতে মন্দা নেমে আসতে পারে—এমন সতর্কতা সত্ত্বেও ওতাইবা যুক্তরাষ্ট্রে আবুধাবির ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, 'আমেরিকার সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে, উভয় দেশ তত শক্তিশালী হবে।' তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, আমিরাতের এই অবস্থান দেশটিকে উপসাগরীয় ঐকমত্য থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

দুবাইয়ের সাবেক পুলিশ প্রধান ধাহি খালফান তামিম আরও এক ধাপ এগিয়ে আরব দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন এবং পশ্চিমা শক্তি ও ইসরাইলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে পশ্চিমা দেশগুলোই বন্ধুপ্রতীম দেশ, আর যাদের আমরা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ বলি, তারা আসলে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন।'

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।