জ্যোতিষশাস্ত্র মেনে শপথ নিচ্ছেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ
নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, কারণ রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) তরুণ নেতা বলেন্দ্র শাহ আগামীকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। তবে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় শাস্ত্রীয় আচারের এক অনন্য সংমিশ্রণে অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
শপথের সময় নির্ধারণ জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী
বলেন্দ্র শাহ ও তার পরিবার জ্যোতিষশাস্ত্রে গভীর বিশ্বাসী হওয়ায় শপথের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে। আরএসপির সাধারণ সম্পাদক কবিন্দ্র বুড়লাকোটি জানিয়েছেন, শপথের শুরুতে সাতজন শঙ্খবাদক শঙ্খনাদ করবেন। এছাড়া ১০৮ জন বৈদিক পুরোহিত ‘স্বস্তি শান্তি’ পাঠ করবেন এবং ১৬ বৌদ্ধ ভিক্ষু ‘অষ্টমঙ্গল’ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিকে শুভ করার আচারে অংশ নেবেন। শপথ গ্রহণ শেষে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে তিনি সিংহ দরবারে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আরএসপির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বলেন্দ্র শাহকে সংসদীয় দলের নেতা ঘোষণা করা হবে। এর আগে স্পিকার অর্জুন নরসিংহ কেসির কাছে নবনির্বাচিত ২৬৫ সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করবেন। আরএসপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সংসদীয় দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার হতে পারেন। গত ২৮ ডিসেম্বর দলের সভাপতি রবি লমিছান্নে ও শাহের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী এই মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।
সমালোচনার মুখে জ্যোতিষতত্ত্ব
জ্যোতিষশাস্ত্র মেনে শপথের সময় নির্ধারণ করায় নেপালের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিদায়ি অর্থমন্ত্রী রামশোর খানাল ফেসবুকে এই প্রথার সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘এই ধরনের বিলাসিতার সময় আমাদের আগে ছিল না, তবুও ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।’ এই সমালোচনা সত্ত্বেও, শাহের দল জোর দিয়ে বলছে যে এটি তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের অংশ।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা
শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ তার মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করছেন। মন্ত্রী পদের জন্য সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন স্বর্ণিম ওয়াগলে, শিশির খানাল, ডিপি আরিয়াল ও ড. তোশিমা কার্কির মতো পরিচিত মুখগুলো। তবে দলের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে মন্ত্রী ও স্পিকার পদের নামগুলো স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে আরএসপি সূত্রে জানা গেছে।
এই অনুষ্ঠানটি নেপালের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান আধুনিক রাজনীতির সাথে মিলিত হচ্ছে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট নেপাল।



