মে মাসে চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মে মাসে চীন সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মে মাসে চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মে মাসে চীন সফরে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এটি হবে তার আট বছর পর প্রথম বেইজিং সফর, যা পূর্বে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সফরটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সফরের তারিখ ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা

স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ মার্চ) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে জানান, তিনি ১৪ ও ১৫ মে বেইজিং সফর করবেন। সেইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, চলতি বছরের শেষের দিকে ওয়াশিংটন সফরের জন্য তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানাবেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক সফরগুলোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমি প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চীনের প্রতিক্রিয়া ও পূর্বের বাধা

এ বিষয়ে চীনের দূতাবাস জানিয়েছে, তারা এ মুহূর্তে কোনো তথ্য দিতে পারছে না। সাধারণত বেইজিং কয়েকদিন আগে পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট শি’র সফরসূচি প্রকাশ করে না, যা এই সফরের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এই বহুদিনের পরিকল্পিত সফর এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা বারবার বিভিন্ন ঘটনার কারণে পিছিয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করে, যা ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হাতিয়ার ছিল। একই মাসের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার ফলে বেইজিংয়ের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়, কারণ চীন ইরানের প্রধান তেল ক্রেতা হিসেবে পরিচিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সাম্প্রতিক উন্নয়ন

২০১৭ সালে ট্রাম্পের শেষ চীন সফর ছিল কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ সফর। আগামী মে মাসের এই সফরটি হবে তাদের সর্বশেষ সরাসরি বৈঠকের পর প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। এর আগে গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠকে তারা বাণিজ্য নিয়ে একটি সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন, যা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছিল।

এই সফরটি মার্কিন-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশ্ব রাজনীতিতে এই দুই পরাশক্তির মধ্যে সহযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।