ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আলোচনা অস্বীকার, ট্রাম্পের দাবির বিরুদ্ধে তেহরানের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।
ঘালিবাফের বক্তব্য
ঘালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন যে, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে পড়েছে, তা থেকে বাঁচার জন্য ভুয়া খবর ব্যবহার করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান একটি চুক্তির জন্য মরিয়া এবং মার্কিন দূতেরা ইরানের একজন ‘শ্রদ্ধেয়’ নেতার সঙ্গে কথা বলছেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আলোচনা চালিয়েছেন এবং আজও সেই আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে ট্রাম্প তেহরানের কোনও প্রতিনিধির নাম উল্লেখ করেননি এবং স্পষ্ট করেছেন যে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। ট্রাম্প আরও জানান, চুক্তি হলে ইরান থেকে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ‘ইরান’-এ দাবি করা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এসব মন্তব্য মূলত জ্বালানির দাম কমানো এবং তার সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল মাত্র।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা
তবে আঞ্চলিক দেশগুলোর উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগের কথা স্বীকার করে তেহরান জানিয়েছে, ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি; তাই এ ধরনের সব অনুরোধ ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো উচিত।
আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করলেও কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান রবি ও সোমবার ইরান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, মিসর ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছেন। তুর্কি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস রবিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে সোমবার ট্রাম্পের হামলা ৫ দিন স্থগিত করার ও আলোচনার সুযোগ তৈরির সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। মিসরও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার অযোগ্য পর্যায়ে যাওয়া ঠেকাতে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই আলোচনাকে সতর্কতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছিল। তবে ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যুদ্ধ খুব দ্রুত ও সহজে শেষ হয়ে যাবে, এমন মিথ্যা স্বস্তিতে আমাদের ভোগা উচিত হবে না।
সূত্র: এপি



