পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখার অঙ্গীকার
যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখার অঙ্গীকার

যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখার অঙ্গীকার

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সোমবার (২৩ মার্চ) স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি সম্পাদিত চুক্তিটি সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে, বিশেষ করে বিশাল তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতের ওপর এর প্রভাব পড়বে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ঘাটতি ও আমদানি কমানোর জন্য বিভিন্ন শর্ত আরোপ করছে, যেগুলোতে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের সময় দেশের অর্থনীতি, প্রাইভেট সেক্টর ও জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

চুক্তি আলোচনায় বাংলাদেশের অগ্রাধিকার

নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের একাধিক চুক্তি রয়েছে এবং সবকিছু নিয়েই আলোচনা চলবে। আমি পুনর্ব্যক্ত করছি, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করেই আমরা চুক্তিগুলোতে এগোবো।" তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি রপ্তানিমুখী দেশ এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে, তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গে কাজ করা জরুরি। আলোচনার ভিত্তিতে শুধুমাত্র বাস্তবায়নযোগ্য ও অর্থনীতিকে সাহায্যকারী চুক্তিগুলোই গ্রহণ করা হবে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা

ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছর ধরে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশের প্রতি একপাক্ষিক ছিল, যা জনসংযোগকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। তবে তিনি মনে করেন, ভারত এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে এবং বুঝতে পারছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে এদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের বর্তমান সরকার 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতিতে কাজ করছে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও এই নীতি ব্যত্যয় হবে না।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত, পানি বণ্টন, বাণিজ্য ঘাটতিসহ বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে, যেগুলো আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ, সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

সার্ক পুনরুজ্জীবনের প্রত্যাশা

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন ও ভিশন ছিল সার্ক প্রতিষ্ঠা। যদি সংস্থাটি সচল থাকত, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনগণ আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারত। তিনি বলেন, "আমরা অবশ্যই সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে চাই, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে এটা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে।"

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য, বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াসহ সব ক্ষেত্রে সংযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। সার্ককে একটি কার্যকর সংস্থায় পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে, যা শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।