ঈদে হিলি সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মিষ্টি বিনিময়, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা
হিলি সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মিষ্টি বিনিময়

পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে একটি অনন্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মধ্যে মিষ্টি উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আনুষ্ঠানিকতা

দুপুর ১২টায় হিলি সীমান্তের শূন্য রেখায় দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। জয়পুরহাট বিজিবির কমান্ডার মো. আলাউদ্দিন ভারতীয় প্রতিপক্ষ শ্রী রহিদ শর্মার হাতে ঈদের শুভেচ্ছা স্বরূপ চার প্যাকেট মিষ্টি তুলে দেন। পাল্টা সৌজন্য হিসেবে বিএসএফের পক্ষ থেকেও বিজিবি সদস্যদের চার প্যাকেট মিষ্টি উপহার দেওয়া হয়।

উভয় বাহিনীর অংশগ্রহণ

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিজিবি ও বিএসএফের নারী ও পুরুষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আনন্দঘন পরিবেশে তারা একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আন্তরিক আলাপচারিতায় মেলামেশা করেন। এই আয়োজনটি সীমান্তে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সীমান্তে সম্প্রীতি রক্ষার অঙ্গীকার

হিলি বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার মো. আলাউদ্দিন বলেন, "সীমান্তে দায়িত্বরত দুই দেশের রক্ষীবাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা প্রতিটি বিশেষ দিবসে একে অপরকে মিষ্টি ও উপহার দিয়ে থাকি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ আমরা বিএসএফকে মিষ্টি উপহার দিয়েছি এবং তারাও আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এই ধরনের সৌজন্যতা সীমান্তে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুই বাহিনীর সদস্যরা সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মনোভাব প্রকাশ করেন, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে এই ধরনের মিষ্টি বিনিময়ের রীতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। বিশেষ করে ঈদ, দীপাবলি, স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবগুলোতে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকে। এটি কূটনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

হিলি সীমান্তে এই আয়োজনটি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম।