ঈদুল ফিতরে বিরোধীদলীয় নেতার কূটনৈতিক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শনিবার ঢাকায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে একটি কূটনৈতিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শফিকুর রহমান ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেছেন।
শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারী
এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি শনিবার বেলা ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে। শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবন, যা ২৯ মিন্টো রোডে অবস্থিত, সেখানে এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেন যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত, ব্রুনেই, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, নেপাল, নেদারল্যান্ডস এবং ভুটানের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা, তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ। এছাড়াও, ইউনিসেফ ও ইউএন ওমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে উপস্থিত হন।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সকলকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। তিনি একইসঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের গভীরতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যা দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে তুলে ধরে।
ঈদের নামাজ ও অন্যান্য শুভেচ্ছা বিনিময়
এর আগে, শফিকুর রহমান নিজের সংসদীয় আসন ঢাকা–১৫–এর অন্তর্গত মিরপুরের ৬০ ফিট রাস্তাসংলগ্ন মনিপুর গার্লস হাইস্কুল মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। সকাল আটটায় নামাজ শেষে তিনি সেখানে উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা স্থানীয় সম্প্রীতির একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিকেলে, বেলা তিনটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত শফিকুর রহমান রাজনৈতিক নেতাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। এই অনুষ্ঠানটিও তাঁর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি অংশ হিসেবে দেখা যায়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য জোরালো আহ্বান জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিল আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক শক্তি। এই সনদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হলো এর সব বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং এর বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দল আদালতে যাবে না।
তিনি অভিযোগ করেন যে, সংসদের শুরুতেই এই অঙ্গীকারগুলো উপেক্ষিত হচ্ছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ ও গণভোটকে গুরুত্ব না দেওয়ায় জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ সার্বভৌম শক্তি, যা সংবিধানেও স্বীকৃত। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, তুলনামূলক কম ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে গণভোটের ফলাফলের সংঘাত তৈরি হলে তা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও যোগ করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কেউ দাবি করছেন জুলাই সনদের সব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, কিন্তু যে বিষয়গুলোতে স্বাক্ষর করা হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা উচিত। মতভেদ থাকলে তা সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করা হলে জাতির মধ্যে হতাশা বাড়বে এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জনগণের মালিকানার প্রশ্নে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।



