জ্বালানি সংকটে ইরানের কূটনৈতিক পদক্ষেপ: জাপানের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে প্রস্তুত তেহরান
জ্বালানি সংকটে ইরানের কূটনৈতিক পদক্ষেপ: জাপানের জাহাজ চলাচলের অনুমতি

জ্বালানি সংকটে ইরানের কূটনৈতিক পদক্ষেপ: জাপানের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে প্রস্তুত তেহরান

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাপানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি দিতে তেহরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শনিবার (২১ মার্চ) জাপানি সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আলোচনা শুরু ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আরাঘচি জানান, বর্তমানে চলমান নৌ-অবরোধ সাময়িকভাবে শিথিল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জাপানি পক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে ইরান। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে ইরানের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জাপানের একজন সরকারি কর্মকর্তা কিয়োদো নিউজকে জানিয়েছেন যে, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি আলোচনাই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে। তবে জাপানি কর্মকর্তারা এই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জাপানের সতর্কতা ও কৌশলগত বিবেচনা

তাঁরা উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় ওয়াশিংটনের সঙ্গে টোকিও-র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যেন কোনো অবনতি না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। এ ছাড়া জাপানি জাহাজগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দিলেও তা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী এবং পূর্ণাঙ্গ সমাধান করবে না বলেও তাঁরা সতর্ক করে দিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আরাঘচির এই প্রস্তাবের আড়ালে ইরানের ‘প্রকৃত উদ্দেশ্য’ আসলে কী, তা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত যখন চরম পর্যায়ে, তখন জাপানের মতো একটি মার্কিন মিত্র দেশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি তেহরানের কোনো কৌশলগত চাল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক প্রভাব

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যার পর পরই তেহরানের এই নতুন প্রস্তাব সামনে এলো। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়, যার ওপর জাপান ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যুদ্ধের ফলে এই পথটি রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় জাপানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এমতাবস্থায় ইরানের এই নমনীয় মনোভাব টোকিও-র জন্য একদিকে যেমন স্বস্তির খবর, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধের এই চতুর্থ সপ্তাহে এসে তেহরান সম্ভবত কূটনৈতিক পথে মিত্র ও শত্রুদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক।

সূত্র: বিবিসি