শ্রীলঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষতা ঘোষণা
শ্রীলঙ্কার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমানকে তাদের বেসামরিক বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেয়নি বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। শুক্রবার (২০ মার্চ) পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন, যা দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান অবতরণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান
প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে ব্যাখ্যা করেন, ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলোকে দক্ষিণাঞ্চলের মত্তলা রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি চেয়েছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শ্রীলঙ্কার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে সেই অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশটি কোনো পক্ষের প্রতি ঝুঁকে না গিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের নৌযান পাঠানোর অনুমতিও প্রত্যাখ্যাত
একই সময়ে ইরানও তাদের তিনটি নৌযান শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর অনুমতি চেয়েছিল, যা-ও একই কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানান দিশানায়েকে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি তারা এক পক্ষকে অনুমতি দিত, তবে অন্য পক্ষকেও দিতে হতো, যা দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে জটিল করে তুলতে পারত এবং সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও শ্রীলঙ্কার কৌশলগত সিদ্ধান্ত
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিশ্ববাজারে। এই প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কা নিজেদের কৌশলগত অবস্থান থেকে সতর্ক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে বলেন, শ্রীলঙ্কার মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনায় জড়ানো সম্পূর্ণরূপে এড়ানো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যমূলক নীতি অনুসরণ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ও উন্নয়নে সহায়ক হবে। এই সিদ্ধান্ত শ্রীলঙ্কার স্বাধীন কূটনৈতিক নীতির প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে, যা বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে।



