ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি: তুরস্ক-ওমান হামলা ইরানের নয়, সাজানো ঘটনা
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে, তুরস্ক বা ওমানের দিকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা ইরান বা তাদের মিত্র বাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয়নি। শুক্রবার (২০ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি এই বক্তব্য তুলে ধরেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
হামলাগুলো সাজানো ঘটনা বলে দাবি
খামেনি তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও ওমানে সংঘটিত হামলাগুলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কোনো কর্মকাণ্ড নয়। বরং তিনি এগুলোকে “শত্রুদের সাজানো ঘটনা (ফলস ফ্ল্যাগ)” হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, এসব ঘটনার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং অস্থিতিশীলতা বাড়ানো।
ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের “সাজানো হামলা” অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে ঘটতে পারে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বিভ্রান্তি এড়াতে সত্যতা যাচাইয়ের উপর জোর দেন।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব
এছাড়া, খামেনি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন। তিনি দুই দেশকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রতিবেশী হিসেবে ইরান তাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত।” তিনি উল্লেখ করেন, এই দুই “ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ” যেন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে—এটাই তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
খামেনির এই বিবৃতি ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরানের ভূমিকা তুলে ধরে। সূত্র: আল-জাজিরা।



