মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: তেলের দাম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে বৈশ্বিক তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কিছু মহলের রাজনৈতিক সুযোগ নেওয়ার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি দেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংঘাতের ফল হলেও অনেকে বিষয়টি না বুঝেই সরকারকে দোষারোপ করছেন।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকট
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ও হামলার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও কিছু বিরোধী পক্ষ সরকারকে অবিচ্ছিন্নভাবে আক্রমণ করছে, যা মোটেও দায়িত্বশীল বা দেশপ্রেমিক আচরণ নয়।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রিত ও সংযত রাখা উচিত এবং এই জটিল সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের একসঙ্গে সমাধান খুঁজতে কাজ করতে হবে। শুক্রবার ২০ মার্চ, পারমাতাং পাও-এ এক কমিউনিটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বিশদভাবে উল্লেখ করেন যে, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে অস্থিরতা তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে।
সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও আশ্বাস
অর্থমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা আনোয়ার ইব্রাহিম স্পষ্টভাবে জানান, সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এখনো জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যদিও বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ ইতোমধ্যে বাজার চাপের মুখে দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া, পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার বিশেষ জরুরি বৈঠক করেছে এবং মাজলিস কেসেলামাতান নেগারা (জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল) এর সঙ্গে নিবিড় আলোচনা করে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কৌশলগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করছে।
তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, জাতীয় তেল কোম্পানি পেট্রোনাস-এর সঙ্গেও জরুরি আলোচনা হয়েছে, যাতে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। বর্তমান মজুত পর্যাপ্ত ও আগামী মে মাস পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকবে বলে সরকার আশাবাদী। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য বহুমুখী প্রচেষ্টা অব্যাহতভাবে চলছে।
মালয়েশিয়ার নীতিগত অবস্থান
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, মালয়েশিয়া একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে দৃঢ় ও অটল অবস্থান নেবে এবং সব ধরনের অযৌক্তিক সহিংসতা ও আগ্রাসনের বিরোধিতা করবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সমন্বিত হামলা চালায়। পরবর্তীতে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের ওপর পাল্টা হামলা চালায়, যার সরাসরি ও গভীর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের এই বক্তব্য মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে তিনি জাতীয় ঐক্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর জোর দিয়েছেন। তার এই আহ্বান দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।



