ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর বৈঠক অনুষ্ঠিত
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠকটি সংঘটিত হয়, যা উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতির দিকে ইঙ্গিত করে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনা
বৈঠকের পর দুপুরে উভয় পক্ষ তাদের এক্স হ্যান্ডলে পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, 'বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ছিল আমাদের আলোচনার প্রতিপাদ্য।' এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন ও সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তার পোস্টে জানিয়েছেন, 'ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছি। অভিন্ন স্বার্থ ও অভিন্ন সুফলের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে একত্রে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ যে তৈরি আছে, সেটা নিশ্চিত করেছি।' এই বক্তব্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
আরও বৈঠকের সম্ভাবনা
দিল্লির একটি কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা গেছে, শুক্রবার বিকালে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এটি উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
গত বছরের মে মাস থেকে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে রিয়াজ হামিদুল্লাহ দায়িত্ব পালন করছেন। ভারতে কাজ শুরুর পর এই প্রথম তিনি দেশটির মন্ত্রী পর্যায়ে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেন। অবশ্য গত বছরের আগস্টে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ, যা তার পূর্বের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ ছিল।
আগামী সফরের সম্ভাবনা
এদিকে, ভারতের ইংরেজি দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মাসে ভারতে সংক্ষিপ্ত সফর করতে পারেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওরা) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে মরিশাস যাওয়ার পথে তিনি ৮ এপ্রিল দিল্লি সফর করতে পারেন। এই সফরটি উভয় দেশের মধ্যে উচ্চ-পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের আরেকটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই বৈঠক এবং সম্ভাব্য সফরগুলি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, বিশেষ করে অভিন্ন স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে।



