ইরানের কঠোর সতর্কতা: ব্রিটেনের মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার আগ্রাসনে অংশগ্রহণ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সাথে টেলিফোন আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহার ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে অংশগ্রহণের সমান হবে। এই বক্তব্য আল জাজিরার মাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যা আরাকচির টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
আলোচনায় আরাকচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইনি নীতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্য ও কিছু ইউরোপীয় দেশের অবস্থানকে "নেতিবাচক ও পক্ষপাতদুষ্ট" বলে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এই দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের বিষয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে।
জাতিসংঘ সনদের ৫১ নং ধারা উল্লেখ
আরাকচি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নং ধারা উল্লেখ করে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং তাদের লক্ষ্য করার কোনও ইচ্ছা নেই। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই দেশগুলোর মধ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো হামলা চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
তার ভাষায়, "এই ধরনের পদক্ষেপ আগ্রাসনে অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা হবে এবং তেহরান ও লন্ডনের মধ্যে ভবিষ্যত সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।" তিনি আরও যোগ করেছেন, "আমরা দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার আমাদের সহজাত অধিকার সংরক্ষণ করছি।"
যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ ও হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা
টেলিফোন আলোচনায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার সংঘাতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতিগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। এই প্রণালী বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত, এবং এর নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরানের এই সতর্কবার্তা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।



