বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আলোচনা
বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আলোচনা

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফ্রড সামিটের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের ‘এমওই৩’ কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসন অংশগ্রহণ করেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা

বৈঠকের শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ লর্ড হ্যানসনকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও অংশীদারত্বমূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। লর্ড হ্যানসনও দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রাখতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পুলিশ সংস্কার ও কারিগরি সহায়তা

বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও আধুনিকায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পুলিশের অভিজ্ঞতা ও পেশাদারত্বের উদাহরণ তুলে ধরে বাংলাদেশ পুলিশের কৌশলগত সংস্কার, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা কামনা করেন।

গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী নিরাপত্তা সংস্কার, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ বিচার খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

এ ছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক মানুষের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

জবাবে লর্ড হ্যানসন বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের সহযোগিতামূলক উদ্যোগগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং মানবিক সহায়তা খাতে যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।