লারিজানির তীব্র প্রশ্ন: 'মুসলিম দেশগুলো কোন পক্ষে?' যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে 'শয়তান' বললেন
ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ বার্তায় তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন, 'আপনারা কোন পক্ষে?' তিনি স্পষ্ট ভাষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে 'শয়তান' বলে অভিহিত করেছেন এবং ইসলামি দেশগুলোর সরকারগুলোর প্রতি ঐক্যের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
মুসলিম দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ায় হতাশা
লারিজানি তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার পর মুসলিম দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া হতাশাজনক হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিরল কিছু রাজনৈতিক অবস্থান ছাড়া কোনো ইসলামি সরকারই ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'কিছু ইসলামি সরকারের এই অবস্থান কি ইসলাম ধর্মের নবীর সেই বাণীর বিরোধী নয়, যেখানে বলা হয়েছে—কোনো মুসলমান সাহায্যের আহ্বান শুনে সাড়া না দিলে সে মুসলমান নয়?' তিনি আরও জিজ্ঞাসা করেন, 'তাহলে এটি কেমন ইসলাম?'
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমালোচনা
লারিজানি বিশেষভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমালোচনা করেছেন, যারা নিজেদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর তেহরানকে 'শত্রু' হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি বলেন, কিছু সরকার ইরানকে শত্রু বলছে, কারণ ইরান তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের স্বার্থে হামলা চালিয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আপনাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে ইরান কি চুপ করে বসে থাকবে? এসব দুর্বল অজুহাত।'
মুসলিম ঐক্যের জরুরি আহ্বান
লারিজানি মুসলিম দেশগুলোকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংঘাত 'একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল, অন্যদিকে মুসলিম ইরান ও প্রতিরোধশক্তি'—এই দুই পক্ষের মধ্যে। তিনি স্পষ্ট প্রশ্ন রাখেন, 'এই যুদ্ধে আপনারা কোন পক্ষের সঙ্গে আছেন?'
তিনি আরও বলেন, অঞ্চলের ভবিষ্যৎ মুসলিম দেশগুলোর বৃহত্তর ঐক্যের ওপর নির্ভর করছে। 'আপনারা জানেন, আমেরিকা বিশ্বস্ত নয় এবং ইসরাইল আপনাদের শত্রু। এক মুহূর্ত থেমে নিজেদের ও অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন। ইরান আপনাদের মঙ্গল কামনা করে এবং আপনাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না।'
ইসলামি উম্মাহর ঐক্যের গুরুত্ব
লারিজানি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি উম্মাহর ঐক্য যদি শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তা সব ইসলামি দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান 'গ্রেট শয়তান' ও 'লিটল শয়তান'—অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি মুসলিম দেশগুলোর সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা এই সংকটময় সময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইরানের পাশে দাঁড়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হুমকির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।



