ভিয়েনায় গ্লোবাল ফ্রড সামিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিজিটাল জালিয়াতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান
গ্লোবাল ফ্রড সামিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিজিটাল জালিয়াতি মোকাবিলার আহ্বান

ভিয়েনায় গ্লোবাল ফ্রড সামিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিজিটাল জালিয়াতি মোকাবিলায় জোরালো আহ্বান

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬’-এ বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ডিজিটাল জালিয়াতি ও বৈশ্বিক প্রতারণা মোকাবিলায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। ‘গ্লোবাল ফ্রড রেসপন্স মেকানিজম’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্যে তিনি আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশে ডিজিটাল স্ক্যাম ও আর্থিক ক্ষতির চিত্র

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশে ডিজিটাল স্ক্যাম, এমএলএম পঞ্জি স্কিম এবং করপোরেট দুর্নীতির ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে দেশে আনুমানিক ২১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমটিএফই এবং বিভিন্ন বিতর্কিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিলিয়ন টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বৈশ্বিক প্রতারণা ও অর্থ পাচারের উদ্বেগজনক তথ্য

গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী জানান, ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং বা বাণিজ্যের আড়ালে ২০০৯-২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৮.২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক ‘হোয়াইট কলার ক্রাইম’ মোকাবিলায় ১৮৬০ সালের প্রচলিত দণ্ডবিধি বর্তমানে অপর্যাপ্ত, যার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতারণা রোধে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা

বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতারণা রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চারটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল বুঝতে ব্যাপক গবেষণা ও কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা।
  2. বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্মগুলো আরও শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ।
  3. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালুকরণে অগ্রাধিকার দেওয়া।
  4. বিচারিক কাঠামো ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতকরণ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আর্থিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। তবে অপরাধের বৈশ্বিক প্রকৃতির কারণে আন্তসীমান্ত সহযোগিতা ছাড়া এককভাবে এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়।’

সামিটের অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎ বৈঠক

দুই দিনব্যাপী এই সামিটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ অংশগ্রহণ করছেন। মন্ত্রী আগামীকাল যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।