বাংলাদেশের তিন আটকের জন্য কনসুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে, ভারতের অনুমোদন অপেক্ষায়
ভারতে তিন আটকের কনসুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ

ভারতে তিন বাংলাদেশির আটকের ঘটনায় কনসুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ

বিদেশমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে তিন ব্যক্তির জন্য কনসুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে, কিন্তু সেই অনুরোধ এখনো ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই তিনজনকে ভারতীয় পুলিশ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে আটক করেছে।

কনসুলার অ্যাক্সেসের প্রক্রিয়া চলমান

প্রতিমন্ত্রী ইসলাম বলেন, "আমরা ভারতের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছি। যারা আটক রয়েছেন, তাদের জন্য কনসুলার অ্যাক্সেস পাওয়া এবং তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে।" তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ প্রথমে দুইজন আটকের জন্য কনসুলার অ্যাক্সেস চেয়েছিল, পরে তৃতীয় আরেকজন যুক্ত হওয়ায় অনুরোধটি সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, "কনসুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার পর আমরা তদন্ত চালিয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য দিতে সক্ষম হব। প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান, এবং আমরা আশা করি ভারত পূর্ণ সহযোগিতা করবে।" এই পদক্ষেপটি আটক ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা এবং তাদের অবস্থা যাচাইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর র্যাব ভেঙে দেয়ার আহ্বান

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ নয়টি মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের কাছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একটি যৌথ চিঠিতে তারা অভিযোগ তুলেছে যে, এই অভিজাত আইন প্রয়োগকারী ইউনিটের সাথে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা জড়িত রয়েছে।

এই বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ইসলাম বলেন, তিনি এখনো সেই প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেননি। তবে তিনি মন্তব্য করেন, "গত ১৭ বছরে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই মানবাধিকার লঙ্ঘন দেখেছি। বারবার মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।" তিনি আরো যোগ করেন যে, র্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, কিন্তু আগের সরকার এটি জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে।

মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি

প্রতিমন্ত্রী ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত সরকার একটি "মানবিক সরকার" এবং বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা শক্তিশালী করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার মানবাধিকার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে, যেখানে কনসুলার অ্যাক্সেসের মতো আইনি প্রক্রিয়াগুলো দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা এই বিষয়ে ভারতের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং শীঘ্রই ইতিবাচক ফলাফল আশা করা হচ্ছে।