হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় চীনের সহায়তা চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে আসন্ন বৈঠকের প্রাক্কালে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিংয়ের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আহ্বান জানান, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে চীনের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বৈঠকের সময়সূচী ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
মার্চ মাসের শেষে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই সফরের সময়সূচী কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসনে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন বলে জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের মতে, চীনের প্রয়োজনীয় তেলের ৯০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে, যা বেইজিংয়ের নিজস্ব স্বার্থে এই জলপথ সচল রাখাকে অপরিহার্য করে তোলে। তবে, ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক 'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ'-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনের মোট আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পার হয়।
পরিসংখ্যানগত বাস্তবতা ও বৈশ্বিক প্রভাব
অন্যান্য বাণিজ্যিক তথ্যানুযায়ী, চীন ইরান থেকে তাদের মোট তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কিনলেও, এটি চীনের সামগ্রিক তেল আমদানির মাত্র ১২ শতাংশের সমান। এই পরিসংখ্যান ট্রাম্পের দাবির সাথে কিছুটা বৈপরীত্য দেখাচ্ছে, যা হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে যখন বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং চীন-মার্কিন কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন মোড় নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালির মতো স্পর্শকাতর এলাকায় চীনের ভূমিকা কী হবে, তা এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ইস্যুটি শুধুমাত্র জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ই নয়, বরং এটি দুই পরাশক্তির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি পরীক্ষাও বটে। ট্রাম্পের আহ্বান এবং চীনের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিশ্ব রাজনীতিতে এর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
