বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার আশাবাদ
বাংলাদেশ-তুরস্ক বৈঠকে কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার আশাবাদ

বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার আশাবাদ

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। আজ শনিবার আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান শনিবার সন্ধ্যায় আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সমস্ত দিক নিয়ে গভীর আলোচনা করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনার ওপর বিশেষ জোর দেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও সমঝোতা স্মারক

বৈঠকের পর দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন, যেখানে তারা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়াও, তারা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং গাজায় শান্তি প্রচেষ্টার সমর্থনে একসঙ্গে কাজ করার জন্য যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তুরস্কের কূটনৈতিক একাডেমি এবং বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

তুরস্কের সমর্থন ও অতিথিপরায়ণতা

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সম্মানে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইফতার এবং নৈশভোজের আয়োজন করেন, যেখানে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে, তুরস্ক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তুরস্ক থেকে সরকারি সফরে নিউইয়র্ক যাবেন বলে জানানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।