নেপালের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের অপেক্ষা
নেপালে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচন শেষে দেশটি এখন নতুন সরকার গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই গণতান্ত্রিক উৎসবে অংশ নিয়ে লাখো ভোটার তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন, যা দেশটির স্থিতিস্থাপকতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের শক্তিকে প্রতিফলিত করে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন ও আশাবাদ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেপালের এই সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই নির্বাচন নেপালের জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।
তারেক রহমান বলেন, "৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সফল ও শান্তিপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচনের জন্য নেপাল সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন। এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অনুশীলন দেশটির জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং স্থিতিস্থাপকতা এবং তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের শক্তিকে প্রতিফলিত করে।"
দু'দেশের সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে বাংলাদেশ এবং নেপালের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও উন্নত হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের নতুন সরকার নেপালের জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ রয়েছে, যা দু'দেশের মধ্যে সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
"বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশের নতুন সরকার নেপালের জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে রয়েছে," তিনি যোগ করেন।
নির্বাচনের পটভূমি এবং ফলাফল
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালে নেপালে জেন-জি অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ক্ষোভ, হতাশা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লাখো ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন।
নির্বাচনে প্রায় এক কোটি ১৩ লাখ ভোটার অংশগ্রহণ করেন, যেখানে ২৭৫ সদস্যের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৬৫ আসন সরাসরি ভোটে এবং ১১০ আসন পার্টি তালিকার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
শেষ খবর অনুযায়ী, ভোট গণনা এখনও চলমান রয়েছে। প্রাথমিক গণনায় তরুণদের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ১১০ আসনে এগিয়ে আছে, যা দলটিকে বড় জয় নিয়ে সরকার গঠনের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নির্বাচন নেপালের গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে।



