ভারতে আটক দুই বাংলাদেশিকে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার অভিযোগে ভারতে আটক দুই বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় ফেরত চাওয়া হবে
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, "হাদি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে ভারতীয় পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সত্যি হয়ে থাকলে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত চাওয়া হবে।" তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ভারতের কাছে ইতিমধ্যে "পর্যাপ্ত তথ্য" চাওয়া হয়েছে এবং কূটনীতিক চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমে এই দুজনকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
কনস্যুলার এক্সেস ও আলোচনা প্রক্রিয়া
শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, রবিবার (৮ মার্চ) কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ভারতের কাছে কনস্যুলার এক্সেস চেয়েছেন। "এই এক্সেস পেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে," বলেছেন তিনি। তবে, কলকাতা থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনি প্রক্রিয়া ও অপেক্ষার সময়
কবে নাগাদ এই দুই বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সেটা আমরা এখনো কিছু বলতে পারছি না। যেহেতু এটা একটা অন্য দেশের আইন আদালতের ব্যাপার তো, যেহেতু মাত্র এই ঘটনাটা ঘটেছে, আমরা কূটনীতির মাধ্যমে চেষ্টা করছি।" তিনি আরও যোগ করেন, "রুলস প্রসিডিউর আমাদের ফলো করতে হবে। তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আশা করবো, ভারত আমাদেরকে সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।"
অন্যান্য বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
একটি প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, "শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচারে সরকার সচেষ্ট আছে।" এই মন্তব্যটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আইনি সহযোগিতার একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপগুলো নাগরিকদের ফেরত আনার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।



