শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারতে গ্রেপ্তার, বাংলাদেশ কনস্যুলার সুবিধা চাইছে
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ওরফে মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এখন ভারতের কাছে কনস্যুলার সুবিধা চেয়েছে, যাতে তাদের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ব্রিফিং
আজ সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, ‘বাংলাদেশের কলকাতা মিশন থেকে রোববার ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চাওয়া হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, দ্রুতই এই অ্যাক্সেস পাবে এবং তারপরই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচারে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।’
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। গত বছর ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় তাঁকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন সহায়তা করেছিলেন। তাঁরা ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর নির্দেশনায় কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যার পর তিনজনই ভারতে পালিয়ে যান।
ভারতে গ্রেপ্তার ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া
গত শনিবার রাতে ভারতীয় পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) ফয়সাল করিম (৩৭) ও আলমগীর হোসেনকে (৩৪) গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেছেন যে, মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার পর বনগাঁ এলাকায় আসেন।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখন তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ শুরু হয়েছে।’ বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, ভারতের সহযোগিতায় আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে উভয় দেশই আন্তর্জাতিক আইন ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে চলেছে।



