লন্ডনে কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান লন্ডনে অনুষ্ঠিত ২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৫৬টি সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করছেন, যেখানে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং আগামী কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও আলোচ্যসূচি
লন্ডনের ঐতিহাসিক ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে রোববার (৯ মার্চ ২০২৬) এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং সংস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।
বৈঠকের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
- নিয়ম-নীতি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা
- বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ও রীতিনীতির সামনে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ
- বিশ্বজুড়ে নতুন করে দেখা দেওয়া সমস্যাবলি মোকাবিলায় কমনওয়েলথের ভূমিকা
- সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত সমৃদ্ধির লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কৌশল
জাতিসংঘ সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতা
কূটনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, এই সম্মেলনকে ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থী বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এখন এই পদের জন্য বাংলাদেশ সাইপ্রাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করেছিল। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃত।
আগামী কর্মসূচি ও প্রত্যাশা
এই সম্মেলনে আগামী ১-৪ নভেম্বর অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনের (সিএইচওজিএম) আলোচ্যসূচি এবং নীতিগত অগ্রাধিকারগুলোও নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সম্মেলনের ফাঁকে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়: ২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনের মাধ্যমেই সোমবার থেকে ৫৬টি সদস্য রাষ্ট্রের বার্ষিক ‘কমনওয়েলথ দিবস’ উদযাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় সোমবার এই দিবসটি পালন করা হয়, যা কমনওয়েলথ দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
সফর শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আগামী ১২ মার্চ দেশে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। বৈশ্বিক কূটনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা দেশের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্যেরই প্রতিফলন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
