যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামের পদত্যাগ
বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে তার পদ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। বিদেশ বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির লন্ডনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বর্তমানে লন্ডন সফররত অবস্থায় আছেন এবং বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে কমনওয়েলথ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
সরকারের অভিযোগ ও পদত্যাগের কারণ
হুমায়ুন কবির স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আবিদা ইসলাম প্রবাসী বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। তার কার্যক্রম সম্প্রদায়কে বিভক্ত রাখার চেষ্টা করেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বলেছেন, "সুসংবাদ হলো হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে"।
এই সিদ্ধান্তের সময় বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে মার্চ মাসে অনুষ্ঠিতব্য ২৬তম কমনওয়েলথ বৈদেশিক বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এই বৈঠকটি বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতার জন্য ব্যাপক সমর্থন আদায়ের একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আবিদা ইসলামের কূটনৈতিক জীবন
আবিদা ইসলাম ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। একজন ক্যারিয়ার কূটনীতিক হিসেবে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আমেরিকা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তার প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
তার পূর্বের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদগুলো নিম্নরূপ:
- লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনে (২০০১-২০০৪)
- কলম্বোতে (২০০৪-২০০৬)
- ব্রাসেলসে (২০০৯-২০১২)
- কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার (২০১২-২০১৪)
কলকাতায় প্রথম নারী ডেপুটি হাইকমিশনার ও হেড অব মিশন হিসেবে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা উইং (২০১৪-২০১৫) এবং আমেরিকাস এরিয়া (২০১৫-২০১৭) পরিচালনার দায়িত্বও তিনি সফলভাবে পালন করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার কার্যকালে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কের উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল। বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই আশা করছেন যে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
বিদেশমন্ত্রীর লন্ডন সফর এবং কমনওয়েলথ বৈঠকে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার জন্য সমর্থন আদায় এই সফরের একটি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
